পরমাণুর শক্তিস্তরের ইলেকট্রন বিন্যাস (Electronic Configuration in Energy Levels)
🔹 শক্তিস্তর (Energy Levels)
পরমাণুর কেন্দ্রককে ঘিরে ইলেকট্রন নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে অবস্থান করে।
- এদের বলা হয় Principal Energy Level (Principal quantum number, n = 1, 2, 3, …)
- প্রতিটি শক্তিস্তর আবার বিভক্ত হয় উপস্তর (Subshell: s, p, d, f) এ।
- প্রতিটি উপস্তর আবার গঠিত হয় অরবিটাল (Orbital) দ্বারা।
🔹 উপস্তর ও ধারণক্ষমতা
প্রতিটি উপস্তরের ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা নির্দিষ্ট:
- s উপস্তর → 2 ইলেকট্রন
- p উপস্তর → 6 ইলেকট্রন
- d উপস্তর → 10 ইলেকট্রন
- f উপস্তর → 14 ইলেকট্রন
🔹 শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা
সমীকরণ:
Maximum \, electrons = 2n^2
যেখানে,
- = শক্তিস্তর সংখ্যা (Principal quantum number)
উদাহরণ:
- → 2×1² = 2 ইলেকট্রন
- → 2×2² = 8 ইলেকট্রন
- → 2×3² = 18 ইলেকট্রন
- → 2×4² = 32 ইলেকট্রন
🔹 ইলেকট্রন ভরাটের নিয়ম (Electron Filling Rules)
-
আউফবাউ নীতি (Aufbau Principle)
- ইলেকট্রন সর্বনিম্ন শক্তি স্তরে আগে ভরাট হয়।
- ক্রম:
1s → 2s → 2p → 3s → 3p → 4s → 3d → 4p → 5s → 4d → 5p → 6s → 4f → 5d → 6p → 7s → 5f → 6d …
-
পাউলি বর্জন নীতি (Pauli Exclusion Principle)
- একটি অরবিটালে সর্বোচ্চ দুটি ইলেকট্রন থাকতে পারে এবং তাদের স্পিন বিপরীত হবে।
-
হান্ডের নিয়ম (Hund’s Rule of Maximum Multiplicity)
- একই উপস্তরের অরবিটালে ইলেকট্রনগুলো প্রথমে একেকটি করে বসবে, পরে জোড়া তৈরি করবে।
🔹 কিছু মৌলিক উদাহরণ (Electronic Configuration Examples)
- হাইড্রোজেন (H, Z=1): 1s¹
- হিলিয়াম (He, Z=2): 1s²
- অক্সিজেন (O, Z=8): 1s² 2s² 2p⁴
- সোডিয়াম (Na, Z=11): 1s² 2s² 2p⁶ 3s¹
- ক্লোরিন (Cl, Z=17): 1s² 2s² 2p⁶ 3s² 3p⁵
🔹 গুরুত্ব
- ইলেকট্রন বিন্যাস থেকেই মৌলটির রাসায়নিক ধর্ম, অবস্থান (periodic table), জারণ সংখ্যা, যৌগ গঠন, বন্ধন প্রকার ইত্যাদি বোঝা যায়।
Comments