চিকিৎসা ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটপ
চিকিৎসা ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটপ (Radioisotopes) অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলো রোগ নির্ণয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয়। নিচে বিস্তারিতভাবে বলা হলো—
১. রোগ নির্ণয়ে (Diagnosis) ব্যবহার
তেজস্ক্রিয় আইসোটপ থেকে নির্গত বিকিরণ খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়, তাই চিকিৎসায় এগুলোকে ট্রেসার (Tracer) হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণঃ
-
আয়োডিন-131 (I-131):
- থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।
- রোগীর শরীরে স্বল্পমাত্রায় I-131 প্রবেশ করানো হলে থাইরয়েড গ্রন্থি এটি শোষণ করে। বিকিরণ নির্ণায়ক যন্ত্র (Gamma camera) দ্বারা গ্রন্থির অবস্থা জানা যায়।
-
টেকনেসিয়াম-99m (Tc-99m):
- এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
- হৃদযন্ত্র, যকৃত, কিডনি, হাড় ইত্যাদির কার্যকারিতা ও গঠন নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
- এর অর্ধায়ু মাত্র ৬ ঘন্টা, তাই দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায় এবং শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে না।
-
কোবাল্ট-57 (Co-57):
- পাকস্থলী ও অন্ত্রের কার্যকারিতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
২. চিকিৎসায় (Therapy) ব্যবহার
তেজস্ক্রিয় আইসোটপের শক্তিশালী বিকিরণ ব্যবহার করে কোষ ধ্বংস করা হয়, বিশেষ করে ক্যান্সার কোষ।
উদাহরণঃ
-
কোবাল্ট-60 (Co-60):
- গামা রশ্মি নির্গত করে।
- ক্যান্সার চিকিৎসায় (Radiotherapy) ব্যবহৃত হয়।
- শরীরের টিউমার বা ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
-
আয়োডিন-131 (I-131):
- অতিরিক্ত সক্রিয় থাইরয়েড গ্রন্থি (Hyperthyroidism) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।
- I-131 এর বিকিরণ থাইরয়েড কোষ ধ্বংস করে গ্রন্থিকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনে।
-
ফসফরাস-32 (P-32):
- রক্তের কিছু রোগ (যেমন: Leukemia) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
৩. অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও গবেষণায় ব্যবহার
- অঙ্গ প্রতিস্থাপনের আগে রক্ত প্রবাহ, কিডনি বা লিভারের কার্যকারিতা যাচাই করতে তেজস্ক্রিয় ট্রেসার ব্যবহার করা হয়।
- গবেষণার জন্য বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোষের আচরণ বোঝার কাজেও ব্যবহার হয়।
সারসংক্ষেপ
চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটপের ব্যবহার মূলত দুইভাবে—
- রোগ নির্ণয়ে (Diagnosis): যেমন Tc-99m, I-131
- চিকিৎসায় (Therapy): যেমন Co-60, I-131, P-32
Comments