পর্যায় সারণীর পটভূমি
🔆 পর্যায় সারণীর পটভূমি
১. প্রাথমিক ধারণা
- ১৮ শতক পর্যন্ত প্রায় ৩০টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছিল।
- সময়ের সাথে সাথে নতুন মৌল আবিষ্কৃত হলে এগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ (classification) করার প্রয়োজন দেখা দেয়।
- বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন কিছু মৌলের গুণাবলি ও ভর এর মধ্যে নিয়মিত পুনরাবৃত্তি (periodicity) আছে।
২. প্রথম প্রচেষ্টা
(ক) ডালটনের পরমাণু তত্ত্ব (1803)
- জন ডালটন মৌলকে অবিভাজ্য পরমাণু দ্বারা গঠিত বলেছিলেন।
- এতে মৌলগুলোর পার্থক্য ব্যাখ্যা করা গেলেও, শ্রেণিবিন্যাসের ধারণা স্পষ্ট হয়নি।
(খ) ডোবেরাইনারের ত্রয়ী (Dobereiner’s Triads, 1829)
- একই ধরনের গুণবিশিষ্ট ৩টি মৌলকে একত্রে রাখেন।
- মধ্যবর্তী মৌলের পারমাণবিক ভর প্রায় প্রথম ও শেষ মৌলের গড় হয়।
- উদাহরণ: (Li, Na, K) বা (Cl, Br, I)।
- সীমাবদ্ধতা → সব মৌলকে এভাবে সাজানো যায়নি।
(গ) নিউল্যান্ডস এর অষ্টক নীতি (Law of Octaves, 1864)
- মৌলগুলোকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ভর অনুসারে সাজালে প্রতি অষ্টম মৌলের গুণাবলি প্রায় একই রকম হয়।
- সীমাবদ্ধতা → কেবলমাত্র হালকা মৌলগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর।
৩. মেন্ডেলেফের পর্যায় সারণী (Mendeleev’s Periodic Table, 1869)
- দিমিত্রি মেন্ডেলেফ মৌলগুলোকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ভর অনুসারে সাজান।
- একই ধরনের গুণবিশিষ্ট মৌলগুলোকে একই কলামে রাখেন।
- বৈশিষ্ট্য:
- অজানা মৌলের জন্য ফাঁকা জায়গা রেখেছিলেন।
- কিছু মৌলের পারমাণবিক ভর সংশোধন করেছিলেন (যেমন: টেলুরিয়াম ও আয়োডিন)।
- সীমাবদ্ধতা → ইসোটোপের ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, আর পারমাণবিক ভর নয় বরং পারমাণবিক সংখ্যা আসল ভিত্তি।
৪. আধুনিক পর্যায় সারণী (Modern Periodic Table, 1913)
- হেনরি মোজেলি (Henry Moseley) এক্স-রে স্পেক্ট্রার মাধ্যমে দেখান, মৌলের ধর্ম নির্ভর করে এর পারমাণবিক সংখ্যা (Z) এর ওপর।
- আধুনিক পর্যায় সারণীর ভিত্তি:
"মৌলগুলোর ধর্ম তাদের পারমাণবিক সংখ্যার পর্যাবৃত্ত ক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল।"
৫. বর্তমান পর্যায় সারণী (Long form Periodic Table)
- ৭টি পর্যায় (Period) ও ১৮টি গোষ্ঠী (Group) আছে।
- মৌলগুলোকে s, p, d, f-ব্লক এ ভাগ করা হয়েছে।
- বর্তমানে প্রায় ১১৮টি মৌল স্বীকৃত।
📝 সারসংক্ষেপ
- প্রাথমিকভাবে শ্রেণিবিন্যাস হয়েছিল পারমাণবিক ভর অনুসারে।
- আধুনিক সারণীতে শ্রেণিবিন্যাস হয় পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারে।
- এটি মৌলগুলোর ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য বোঝার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।
Comments