পর্যায় সারণীর বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Modern Periodic Table)
🌐 পর্যায় সারণীর বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Modern Periodic Table)
১. পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারে বিন্যাস
- আধুনিক পর্যায় সারণীতে উপাদানগুলোকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সংখ্যা (Z) অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
- প্রতিটি উপাদানের পারমাণবিক সংখ্যা একক এবং এটি দ্বারা উপাদানের স্থান নির্ধারিত হয়।
- উদাহরণ: হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১, হিলিয়ামের ২, লিথিয়ামের ৩ ইত্যাদি।
২. গ্রুপ (Groups) – উল্লম্ব কলাম
- পর্যায় সারণীতে মোট ১৮টি গ্রুপ রয়েছে।
- একই গ্রুপে থাকা উপাদানগুলোর ভ্যালেন্স শেলে সমসংখ্যক ইলেকট্রন থাকে।
- ফলে একই গ্রুপের উপাদানগুলোর রাসায়নিক ধর্ম একরকম হয়।
- উদাহরণ:
- গ্রুপ ১ (ক্ষার ধাতু): H, Li, Na, K…
- গ্রুপ ১৭ (হ্যালোজেন): F, Cl, Br, I…
৩. পর্যায় (Periods) – অনুভূমিক সারি
- মোট ৭টি পর্যায় রয়েছে।
- প্রতিটি পর্যায় একই সংখ্যক ইলেকট্রন স্তর (শেল) বিশিষ্ট উপাদান ধারণ করে।
- বাঁ থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম কমতে থাকে, অধাতব ধর্ম বাড়তে থাকে।
- উদাহরণ:
- ২য় পর্যায়: Li, Be, B, C, N, O, F, Ne।
৪. ব্লক বিভাজন (Blocks)
ইলেকট্রন বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে উপাদানগুলোকে ৪টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে:
- s-ব্লক: গ্রুপ ১ ও ২ (ক্ষার ও ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু)।
- p-ব্লক: গ্রুপ ১৩–১৮ (অধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় গ্যাস)।
- d-ব্লক: গ্রুপ ৩–১২ (ট্রানজিশন ধাতু)।
- f-ব্লক: ল্যান্থানাইড ও অ্যাকটিনাইড সিরিজ।
৫. ধাতু, অধাতু ও অর্ধধাতুর অবস্থান
- পর্যায় সারণীর বাঁ দিকে ও মাঝামাঝি অঞ্চলে ধাতু থাকে।
- ডানদিকে থাকে অধাতু।
- ধাতু ও অধাতুর মাঝামাঝি (তির্যক রেখায়) থাকে অর্ধধাতু (যেমন: B, Si, As, Sb ইত্যাদি)।
৬. পর্যায়বৃত্ত ধর্মের পুনরাবৃত্তি
- উপাদানের ভ্যালেন্স শেলের ইলেকট্রন সংখ্যা অনুযায়ী তাদের রাসায়নিক ধর্ম নির্ধারিত হয়।
- নির্দিষ্ট ব্যবধান পর এই ধর্ম পুনরাবৃত্ত হয়।
- যেমন: সোডিয়াম (Na) এবং পটাশিয়াম (K) একই ধরনের ধর্ম প্রদর্শন করে।
৭. পরমাণু আকারের পরিবর্তন (Atomic Radius)
- একটি গ্রুপে ওপর থেকে নিচে নামলে: নতুন নতুন ইলেকট্রন স্তর যুক্ত হয় → ফলে পরমাণুর আকার বাড়ে।
- একটি পর্যায়ে বাঁ থেকে ডানে গেলে: নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ে → ইলেকট্রন টেনে নেয় → ফলে পরমাণুর আকার কমে।
৮. ধাতব ও অধাতব ধর্মের পরিবর্তন
- গ্রুপে নিচে নামলে: ধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়, অধাতব ধর্ম কমে।
- পর্যায়ে বাঁ থেকে ডানে গেলে: ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়, অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়।
- উদাহরণ: Na (ধাতু) → Mg → Al → Si → P → S → Cl (অধাতু)।
৯. তড়িৎঋণাত্মকতা (Electronegativity)
- একটি পর্যায়ে বাঁ থেকে ডানে গেলে: Electronegativity বৃদ্ধি পায়।
- একটি গ্রুপে ওপর থেকে নিচে নামলে: Electronegativity কমে যায়।
- উদাহরণ: ফ্লোরিন (F) সর্বোচ্চ Electronegative উপাদান।
১০. আইনায়ন শক্তি (Ionization Energy)
- গ্রুপে নিচে নামলে: Ionization energy কমে (কারণ বাইরের ইলেকট্রন সহজে বিচ্ছিন্ন হয়)।
- পর্যায়ে বাঁ থেকে ডানে গেলে: Ionization energy বৃদ্ধি পায়।
১১. ইলেকট্রন আসক্তি (Electron Affinity)
- একটি পর্যায়ে বাঁ থেকে ডানে গেলে: Electron Affinity সাধারণত বৃদ্ধি পায়।
- গ্রুপে নিচে নামলে: Electron Affinity কমে যায়।
১২. নিষ্ক্রিয় গ্যাসের বিশেষত্ব
- গ্রুপ ১৮-এর উপাদানগুলো (He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn) সম্পূর্ণ ভ্যালেন্স শেলযুক্ত হওয়ায় রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়।
- এরা সাধারণত বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
✅ সংক্ষেপে বলা যায়:
পর্যায় সারণী কেবল উপাদান সাজানোর জন্য নয়, বরং এর মাধ্যমে উপাদানের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্ম, পরমাণুর গঠন, বিক্রিয়াশীলতা ও পর্যায়বৃত্ত পরিবর্তন সহজে ব্যাখ্যা করা যায়।
Comments