ব্যাপন কি ?
ব্যাপন : কোন মাধ্যমে কঠিন ,তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন তরল বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে ।
যেমন : ঘরের এক কোণে কোন একটি সুগন্ধি শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার
উদাহরণ : কোন পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে কম সময় লাগলে পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোন পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগল ওই পদার্থের ব্যাপন হার কম।
পরীক্ষা নং : ১
কক্ষ তাপমাত্রায় একটি কাচের পাত্রে কিছু বিশুদ্ধ পানি নাও পানিতে সামান্য গোলাপী বর্ণের কঠিন পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ছেড়ে দাও কি লক্ষ্য করলে কিছুক্ষণ পর দেখবে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট এর দানাগুলো দ্রবীভূত হয়ে গোলাপি দ্রবণে পরিণত হচ্ছে এক্ষেত্রে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট এর দানা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ধীরে ধীরে গতি শক্তি অর্জন করে এবং পানির মাঝে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে পড়ছে ফলে বেশ কিছু সময় পর পুরো পাত্রেই গোলাপি রং ছড়িয়ে পড়েছে ।
এক্ষেত্রে পানির মাধ্যমে কঠিন পদার্থ পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ব্যাপিত হয়েছে ।
তরলে কঠিন পদার্থের ব্যাপন হার অনেক কম হয় এক্ষেত্রে তাপ প্রদান করলে ব্যাপন হার বেশি হয় ।
পরীক্ষা নং :: ২
একইভাবে যদি গরম পানিতে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট এর পরীক্ষাটি কক্ষ তাপমাত্রায় সম্পন্ন করি তবে দেখা যাবে ঠান্ডা পানির চেয়ে গরম পানিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র পানিকে গোলাপি বর্ণে পরিণত করছে কারণ গরম পানি থেকে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট এর কণাগুলো তাপ গ্রহণ করে অধিক গতিশক্তি প্রাপ্ত হয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ তাপ প্রয়োগ করলে কঠিন পদার্থের ব্যাপন হার বৃদ্ধি পায়।
পরীক্ষা নম্বর ৩ :
একটি বিকেরে কিছু পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি নিয়ে এতে সামান্য পরিমাণ তরল নীলের দ্রবণ যোগ করি কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা যাবে যে সমস্ত পানির রং নীল হয়ে গেছে অর্থাৎ নীলের দ্রবণের কণাগুলো সমস্ত প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এক্ষেত্রে পানিতে তরল পদার্থ ব্যাপিত হয়েছে । কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন পটাশিয়াম পার
ম্যাঙ্গানেটের ব্যাপনের তরল নীলের ব্যাপনের সময় অনেক কম লেগেছে অর্থাৎ তরল মাধ্যমে কঠিন পদার্থের ব্যাপন হার এর চেয়ে তরল মাধ্যমে তরল পদার্থের ব্যাপন হার বেশি। তাপের প্রভাবে এই ব্যাপন হার আরো বেশি হয় কক্ষ তাপমাত্রায় বা গরম অবস্থায় তরল মাধ্যমে গ্যাসীয় পদার্থের ব্যাপন হার সবচেয়ে বেশি।
পরীক্ষা নং :: ৪
দুটি গ্যাসের ব্যাপন : দুই মুখ খোলা একটি লম্বা কাচনল নিই । দুই খন্ড তুলা নিই । একখণ্ড তুলাকে ঘন হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণের এবং অপর খন্ড তুলা অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণের ভিজাই। এরপর কাচ নলের এক মুখে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দ্রবণে ভেজানো তুলা এবং অপর মুখে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণে ভেজানো তুলা দিয়ে বন্ধ করি ।
এখানে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড থেকে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস এবং অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস ব্যাপিত হয়
কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা যাবে যে কাচনলের ভিতরে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস এমোনিয়া গ্যাস পরস্পরের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড এর সাদা ধোঁয়ার সৃষ্টি করেছে । সাদা ধোঁয়ার অবস্থান কাচনলের ঠিক মাঝামাঝি হবে না এটি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দ্রবণের কাছে এবং অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণের থেকে দূরে অবস্থান করবেন অর্থাৎ একই সময়ে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস কম দুরত্ব এবং এমোনিয়া গ্যাস বেশি দূরত্ব অতিক্রম করছে এ পরীক্ষা থেকে বোঝা যায় যে অ্যামোনিয়াম গ্যাস হাইড্রোজেন ক্লোরাইড হতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করছে অর্থাৎ অ্যামোনিয়া গ্যাসের ব্যাপন হার হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাসের ব্যাপন হার থেকে বেশি এর কারণ মূলত এদের আণবিক ভর যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপন হার ততবেশি এখানে অ্যামোনিয়াম গ্যাসের আণবিক ভর হাইড্রোজেন ক্লোরিন গ্যাসের আণবিক ভরের চেয়ে কম । অ্যামোনিয়া গ্যাসের আণবিক ভর 17 এবং হাইড্রোক্লোরিক গ্যাসের আণবিক ভর 36.5।
Comments