পরমাণুর শক্তিস্তর
🔷 পরমাণুর শক্তিস্তর কী?
পরমাণুর ভেতরে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারপাশে যেসব নির্দিষ্ট শক্তির স্তরে অবস্থান করে, সেগুলোকেই শক্তিস্তর বলে।
প্রতিটি শক্তিস্তরের নির্দিষ্ট শক্তিমান আছে—ইলেকট্রন ইচ্ছেমতো যেকোনো জায়গায় থাকতে পারে না।
🔹 শক্তিস্তরের নাম ও চিহ্ন
শক্তিস্তরগুলোকে দুটি উপায়ে প্রকাশ করা হয়—
1️⃣ প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n)
শক্তিস্তর
n এর মান
নাম
1ম
n = 1
K স্তর
2য়
n = 2
L স্তর
3য়
n = 3
M স্তর
4র্থ
n = 4
N স্তর
2️⃣ অক্ষর দ্বারা
K, L, M, N, O, P …
🔹 শক্তিস্তরের প্রধান বৈশিষ্ট্য
নিউক্লিয়াস থেকে দূরত্ব বাড়লে শক্তি বাড়ে
K স্তরের শক্তি সবচেয়ে কম
বাইরের স্তরের শক্তি সবচেয়ে বেশি
প্রতিটি স্তর নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে
🔹 সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা
নিলস বোরের সূত্র অনুযায়ী—
শক্তিস্তর
n
সর্বোচ্চ ইলেকট্রন
K
1
2
L
2
8
M
3
18
N
4
32
🔹 শক্তিস্তর পরিবর্তন (Transition)
ইলেকট্রন যখন—
নিম্ন শক্তিস্তর → উচ্চ শক্তিস্তর যায়
👉 শক্তি শোষণ করে
উচ্চ → নিম্ন স্তরে আসে
👉 শক্তি নির্গমন করে (আলো/বর্ণালী)
📌 এভাবেই পারমাণবিক বর্ণালী তৈরি হয়।
🔹 শক্তিস্তর ও বর্ণালী
হাইড্রোজেন পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা করতে বোর মডেল সফল
লাইম্যান সিরিজ → অতিবেগুনি
বালমার সিরিজ → দৃশ্যমান
প্যাশেন সিরিজ → অবলোহিত
🔹 শক্তিস্তর বনাম অরবিটাল
শক্তিস্তর (Shell)
অরবিটাল (Orbital)
বোর মডেলভিত্তিক
আধুনিক মডেলভিত্তিক
নির্দিষ্ট কক্ষপথ
সম্ভাব্য অঞ্চল
K, L, M, N
s, p, d, f
🔹 পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
✔️ 2n² সূত্র
✔️ K, L, M স্তরের ধারণ ক্ষমতা
✔️ শক্তি শোষণ ও নির্গমন
✔️ শক্তিস্তর ↔ বর্ণালী সম্পর্ক
🔹 সংক্ষেপে মনে রাখার ট্রিক
👉 K → L → M → N
👉 2, 8, 18, 32
Comments